নতুন ভাইরাসের আক্রমণে শিশুদের জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও ঠান্ডা লাগা হলে কি কি করণীয়? জানুন বিশেষজ্ঞদের থেকে।

নিজস্ব প্রতিবেদন:-মহামারীর এই সংকটের মধ্য দিয়ে নতুন আরও এক সংকট উপস্থিত হয়েছে আমাদের ভারতবর্ষে । এবং এবারে শিকার হচ্ছে ফুলের মতন শিশুরা । জ্বর শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হচ্ছে শিশুরা হাসপাতাল এ । উত্তরবঙ্গের দিকে যদি আমরা লক্ষ্য রাখি তাহলে দেখতে পাব যে ক্রমশ পরিস্থিতি খারাপের দিকে এগোচ্ছে ।

সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে প্রতিনিয়ত সংখ্যা বেড়েই চলেছে এই ধরনের শিশুদের সংখ্যা যাদের অজানা জ্বরে আক্রমণ করেছে । কিন্তু এই জ্বর কি? কোনো ইনফ্লুয়েঞ্জা নাকি করোনাভাইরাস? নাকি নতুন কোন ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটল ভারতবর্ষজুড়ে? সে ব্যাপারে চিন্তিত হয়ে পড়েছে চিকিৎসকরা এবং অভিভাবকরা।

বিজ্ঞানীরা সংক্রমিত শিশুদের রক্ত এবং লালা পরীক্ষা করার পর এমনটা ধারণা করেছে বা প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছেন যে আমাদের এই পশ্চিমবঙ্গে মোট ১০ টি জ্বর লক্ষ্য করা গেছে । এর মধ্যে যেমন রয়েছে ইনফ্লুয়েঞ্জা ডেঙ্গু করোনা ঠিক তেমনি রয়েছে আর‌এসভি স্ক্রাব টাইফাস, সোয়াইন ফ্লু,।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্রথমে এই সংক্রমণ কিভাবে শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে তা বিশ্লেষণ করতে যথেষ্ট ধাক্কা খেয়েছিলেন, কিন্তু কলকাতার স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে বেশ কয়েকটি নমুনা পরীক্ষা করার পর কোন তথ্য না পাওয়ায় সেই নমুনা আবার পাঠিয়ে দেওয়া হয় পুনের ভাইরোলজিক্যাল ল্যাবরেটরিতে। এই নমুনা বিশ্লেষণ করে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে প্রায় ৬ জনের শরীরে দেখা গিয়েছে স্ক্রাব টাইফাস, ডেঙ্গি, করোনার জীবাণু।

এই মর্মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একটি গাইডলাইন প্রকাশ করেছে যার মাধ্যমে আপনি স্পষ্টভাবে একটা স্বচ্ছ প্রাথমিক ধারনা পেতে পারেন যে যদি কোনো কারণে অস্বাভাবিক জ্বরের মুখোমুখি হয় আপনার সন্তান তাহলে আপনার কি করনীয় ।। আসুন আমরা দেখেনি সে গাইডলাইন গুলি কি কি

১)জ্বর অথবা শ্বাসকষ্টের উপসর্গ যদি শিশুর দেহে দেখা যায় তাহলে তার ওজন অনুযায়ী প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ মিলিগ্রাম প্যারাসিটামল দেওয়া দরকার।

২)চার ঘণ্টার ব্যবধানে এই প্যারাসিটামল দিতে হবে । এবং দিনে ৫ বারের বেশি প্যারাসিটামল শিশুকে খাওয়ানো যাবে না।

৩)যদি প্রয়োজন হয় তাহলে সর্দি কাশির ওষুধ শিশুকে খাওয়াতে হবে।

৪)যদি শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা দেখা যায় তাহলে সংক্রমণ রোধ করার জন্য শিশুকে নজ্যাল ড্রপ দেওয়া প্রয়োজন।

৫)ডমপেরিডন অথবা অল্ডাসেট্রন দিতে হবে, যদি শিশুর বমি হয়।

৬)যদি শিশুর পেট খারাপ হয় তাহলে ওআরএস দিতে হবে শিশুকে।

৭)শিশুর শরীরে অক্সিজেন এর তাপমাত্রা ৯০% এর নীচে নেমে গেলে, শিশু দ্রুত শ্বাস নিলে, খাওয়াদাওয়া ঠিকমতো না করলে সাথে সাথে শিশুকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button