পাঁচ বছর আগের নোটবন্দিতে সকলের থেকে নেওয়া ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোটগুলি কি করেছে সরকার? জানলে অবাক হবেন

আকাশ বার্তা অনলাইন ডেস্ক – দেশ জুড়ে নোট বাতিল ঘোষণার দিনটির কথা মনে আছে? পাঁচ বছর আগে অর্থাৎ ২০১৬ সালে আজকের দিনেই প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট গু-লি বাতিল করার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। তার পরবর্তী দিন গুলি কার্যত এখনো ভাসে মানুষের চোখের সামনে।

ব্যাঙ্ক থেকে শুরু করে নোট পরিবর্তন করার জন্য কার্যত লম্বা লাইন পড়তে দেখা গিয়েছিল সেই সময়। দিন রাত লাইনে দাঁড়িয়ে পরিবর্তন করতে হয়েছিল সেই নোট। যার ফলস্বরূপ গোটা দেশ থেকে মোট পুরাতন ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট মিলিয়ে আরবিআই এর কাছে জমা পড়েছিল ১৫.২৮ লক্ষ কোটি টাকা।

যদিও তার পরে নতুন ৫০০ ও ২০০০ এর নোট চালু হলেও কখনো কি মনে প্রশ্ন জেগেছে ওই অতো পরিমান পুরানো নোট গুলি কে কি করা হলো? বা সেই নোট গুলিই বা এখন কোথায়? চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক পাঁচ বছর আগে বাতিল হয়ে যাওয়া সেই পুরনো নোট গু-লি-র বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে।

RBI এর বক্তব্য – ২০১৬ শালে নোট বন্দির পর এব্যাপারে প্রথম একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রকাশ করাহয়েছিল ২০১৭ সালের ৩০ শে জুন আরবিআই এর পক্ষ থেকে। সেখানেই জানানো হয়েছিল পুরানো ৫০০ ও ১০০০ এর জমা পড়া নোটের মোট অর্থের পরিমান এবং তার পরিস্থিতি সম্পর্কে।

আর সেখানেই আরবিআই এর পক্ষ থেকে মোট জমা অর্থের পরিমাণ ১৫.২৮ লক্ষ কোটির পাশাপাশি বর্তমানে সেই নোট গু-লি নষ্ট করে ফেলা হয়েছে বলেও জানানো হয়। যেখানে মূলত জানানো হয় সেগুলো আর অর্থ হিসেবে নয় বরং বিভিন্ন জিনিস বানানোর ক্ষেত্রে কাজে লাগানো হয়েছে।

বাতিল নোটের ক্ষেত্রে আরবিআই এর নিয়ম – এক্ষেত্রে আরবিআই এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে দুটি ধাপের মাধ্যমে এই নোট গু-লি-কে নষ্ট করার পক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। যেই পদ্ধতিটির নাম কারেন্সি ভেরিফিকেশন প্রসেসিং সিস্টেম। এই সিস্টেমের দুটি ধাপ রয়েছে।

প্রথম ধাপে দেখা হয়ে থাকে বাতিল নোট গুলিকে নষ্ট করে দেওয়া যাবে কিনা। পরবর্তী পর্যায়ে নোট গু-লি-কে স্ক্রেডিং ব্রিকেট পদ্ধতি অনুসরণ করে মেশিন ব্যবহার করে সূক্ষ্ম আকার দেওয়া হয়। জেগুলিকেই পরবর্তীতে ছোট ছোট ইটের আকার দিয়ে তৈরী করে ফেলা হয় নানান জিনিস।

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডিজাইন এর বাতিল নোট ব্যবহার – এক্ষেত্রে মূলত এই বাতিল নোট গুলিকে নতুন কিছু জিনিস তৈরী করার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে বলা হয় আমেদাবাদের এই ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডিজাইন কর্তৃপক্ষকে। সেখানে কার্যত আরবিআই তাদের জানায় এই নোট তারা আর ব্যবহার করবেন না। তার পরেই এই কাজে লেগে পড়েন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডিজাইন এর শিক্ষার্থীরা।

যেখানে মূলত দেখা যায় জল লাগলেও পুরানো এর নোট এর রং বা নোটের কোন পরিবর্তন হয়না। আর সেখান থেকেই তারা এই বাতিল নোট ব্যবহার করে বাড়ির ব্যবহৃত জিনিস বানানোর সিদ্ধান্ত নেন। ফল স্বরূপ সেই পুরনো ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট গুলি বাতিল হয়ে বালিশ বা টেবিল ল্যাম্প বা বাড়ির আরো অনেক সৌখিন জিনিস এ পরিণত হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button