খুবই কম খরচে ঘুরে আসুন কলকাতার কাছেই এই 10 টি সেরা দেখার জায়গা! রইল ঠিকানাসহ বিস্তারিত।

নিজস্ব প্রতিবেদন:-ভ্রমণপিপাসু বাঙালিকে কখনোই বাড়ির মধ্যে আটকে রাখা সম্ভব হয়নি ।দীর্ঘদিন ধরে পরিস্থিতি তেমন ভাবে উপকূল না থাকার জন্য এতদিন বাইরে দেখা যায়নি তাদেরকে ।কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথে সকলেই আবার ব্যাগ পত্র গুছিয়ে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে অজানা উদ্দেশ্যে। আজকের প্রতিবেদনের মাধ্যমে আপনাদেরকে জানাবো যে দীঘা দার্জিলিং নয়, কলকাতার আশেপাশে এমন দশটি জায়গা রয়েছে যেখানে আপনি কিন্তু খুব স্বল্প খরচে ঘুরে আসতে পারবেন জেনে নিন সে জায়গা গুলি এক নজরে।

মুরগুমা লেক :- এটি অযোধ্যা পাহাড়ের সন্নিকটে অবস্থিত। যেহেতু একদমই নিরিবিলি জায়গায় তেমনভাবে কোন মানুষের সন্ধান জানেনা ।তবে এখানে এসে আপনি প্রকৃতির সান্নিধ্য উপভোগ করতে পারবেন ।এখানে থাকতে গেলে হাজার টাকা থেকে বারোশো টাকার মধ্যে রুম ভাড়া আপনি পেয়ে যাবেন।

ঘাটশিলা:- এখানে আসার জন্য হাওড়া স্টেশন থেকে জনশতাবদি এক্সপ্রেস ধরে খুব সহজে চলে আসতে পারবেন।এটি কথা সাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় স্মৃতিবিজড়িত একটি স্থান ।স্টেশনে অনেকগুলি হোটেল পেয়ে যাবেন সেখানে আপনি রাত কাটাতে পারেন ।তার পাশাপাশি ঘুরে দেখতে পারেন বিভূতিভূষণের বাড়ি এবং লাইব্রেরী এবং বুরুডি লেক।

বেল পাহাড়ি:- বেলপাহাড়ি অঞ্চলের একদম সন্নিকটে অবস্থিত এটি। হাওড়া থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ট্রেন পাওয়া যায়। তবে এটি একটি সাঁওতালি গ্রাম এবং পাহাড়বেষ্টিত এই গ্রামে আপনি রাত্রিযাপনও করতে পারবেন না। তার জন্য আপনাকে বেলপাহাড়ি কোন বেসরকারি জায়গাতে থাকতে হবে।

বাঁকুড়া :- প্রতিনিয়ত পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই জেলাটি কে ঢেলে সাজাচ্ছে পর্যটন শিল্প কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে। এখানে গাছের মধ্যে যেমন ঘর দেখতে পাওয়া যায় ঠিক তেমনি প্রকৃতির সান্নিধ্য পাওয়া যায় একদমই কাছ থেকে।

সুন্দরবন : পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে বলাবাহুল্য কলকাতার কাছাকাছি একটা দারুন জায়গা হচ্ছে সুন্দরবন ।প্রতিবছর শীতকালের পর্যটকরা এই জায়গায় এসে ভিড় জমায়। পাশাপাশি ম্যানগ্রোভ অরণ্য দেখার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে থাকে ।এমনকি যদি ভাগ্য ভালো থাকলে রয়েল বেঙ্গল টাইগার দেখা যেতে পারে।

হাজারদুয়ারি:- বাংলার শেষ নবাব সিরাজ–উদ–দউল্লার রাজধানি মুকসুদাবাদ বা এখনকার মুর্শিদাবাদ আজও ইতিহাস যেখানে কথা বলে।এছাড়াও মিরজাফর–এর সামাধি, সিরাজের সমাধি, ঘণ্টা ঘর; সব কিছু আপনাকে রোজকার একঘেয়েমি থেকে নিয়ে যাবে এক অন্য ভারত বর্ষে। এছাড়াও ঘুরে আসতে পারেন পলাশীর যুদ্ধ প্রান্তর। ভাগীরথীর বুকে নৌবিহার আপনার মনে একে দেবে এক অবিস্মরণীয় ছবি।।

শান্তিনিকেতন:- হাওড়া থেকে বিশ্বভারতি এক্সপ্রেস বা বোলপুর এক্সপ্রেস ব্যাস; ৬ ঘণ্টায় সমস্ত যন্ত্রণার কাব্যিক সমাপ্তি। হ্যাঁ, কবিগুরুর সৌজন্য আর সৌন্দর্যের অনুভূতি আর মুঠো ভর্তি সুর–তাল–ছন্দ নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এই ছোট্ট শহর। রবিন্দ্র নাথের বাসভবন, মিউজিয়াম, সোনাঝুরির হাট, খোয়াই, কোপাই নদী তো আছেই। এর সাথে কবি ও তাঁর শিষ্যদের বিভিন্ন উৎসব পৌষ মেলা, দোল উৎসব, রাখী উৎসব এই সমস্ত কিছুতে আরও রঙিন হয়ে ওঠে এই শহরের আনাচ–কানাচ।

মেসেঞ্জার :- পশ্চিমবঙ্গের ও ঝাড়খন্ড এর বর্ডারে দুনকা জেলায় অবস্থিত এটি । শীতকালে এবং গ্রীষ্মকালে প্রচুর পর্যটক ভিড় করে। নিচে একটি বিশেষ কায়দায় করে জল বের করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেটা এই ডাম্প এর সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। কাছাকাছি জায়গা তারকেশ্বর। সেখানে রাত্রি নিবাস করতে পারেন ।

মায়াপুর :- ভক্তি ভাব, আদর্শ, দর্শন ও সৌন্দর্য এই সব মিলিয়ে এক অপার বিস্ময়ের স্থান মায়াপুর। নামের সঙ্গে মিলে যায় স্থান মাহাত্ম। গঙ্গার তীরে শ্রী চৈতন্য দেবের ভুমি নবদ্বীপের এই মায়াপুর সঠিক অর্থেই মায়া–র–পুর। এখানে ইসকন এর মন্দির টি হল পর্যটক দের প্রধান আকর্ষণ। বিরাট এলাকা জুড়ে ফুল, ফলের বাগান, বিভিন্ন মন্দির, প্রার্থনা ঘর, অজস্র মানুষ, ভক্ত, বিদেশী, পূজারী সন্ত সব মিলিয়ে বিবিধের মাঝে এক মহান মিলন। এখানে এলেই বঝা যায় ‘আপন হতে বাহির হয়ে’ জগতের সাথে এক হওয়া কিভাবে যায়। এই বিশ্বাস সংসারের সাথে একাত্ম হওয়ার অনুভূতি দেয় এই মায়ানগরি। সারা বছর ই এখানে যাওয়া যায় তবে শীতকালে এই মন্দিরের সৌন্দর্য আর বেশি উপভোগ করা যায়।

কৃষ্ণনগর:- কৃষ্ণনগর স্টেশনে নেমে রাজবাড়ী এবং গোপাল ভাঁড়ের বাড়ি দেখে নিতে পারেন আপনারা এক ঝলকে। যদিও এই রাজবাড়ী এবং গোপাল ভাঁড়ের বাড়িটি প্রায় ভগ্নদশা অবস্থায় এখন অব্দি দাড়িয়ে রয়েছে এবং প্রবেশদ্বার ছাড়া তেমন কিছুই অস্তিত্ব নেই এখানে।

নবদ্বীপ:- পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নদিয়া জেলার একটি সুপ্রাচীন শহর ও পৌরসভা এলাকা। নবদ্বীপ চৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মস্থান ও লীলাক্ষেত্রর জন্য বিখ্যাত এই শহর, এটিকে শীর্ষ তীর্থ স্থান হিসেবে জানা যাই, এই শহরে রয়েছে প্রচুর দর্শনীয় মন্দির এদের মধ্যে মহাপ্রভুর জন্মস্থান মন্দির, মহাপ্রভুর মন্দির, পোরামাতলা মন্দির, মা ভবতারিণী মন্দির খুব উল্লেখযোগ্য, এছাড়াও নবদ্বীপের দই ও মিষ্টি খুবই বিখ্যাত, যার সুখ্যাতি সর্বত্র।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button