সপ্তাহান্তে পরিবারকে নিয়ে কাছাকাছি কোথাও ঘুরতে যাবেন ভাবছেন? ঘুরে আসুন এই সুন্দর জায়গায়

আকাশ বার্তা অনলাইন ডেস্ক – আজ থেকে প্রায় ১৩৭ বছর আগের কথা। সেই সময়েই অর্থাৎ ১৮৪৪ সালেই প্রথম বই আকারে প্রকাশ পেয়েছিল দেবী চৌধুরানী। যার লেখক ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। যারা এই বইটি পড়েছেন তারা নিশ্চয় দেবী চৌধুরানীর বজরা সম্পর্কে জেনে থাকবেন।

কিন্তু নদী মাতৃক এই বাংলায় আর কখনোই দেখা যায়নি সেই রূপ বজরা। হয়তো কারোর মনে বজরা চরে নদী ভ্ৰমন এর ইচ্ছা হলেও তা আর পূরণ করতে পারেনি। কিন্তু বর্তমানে সেই অভাব পূরণ করতেই চলে এসেছে ‘চৌধুরানী’। যা মূলত গড়ে তোলা হয়েছে পর্যটক দের কথা মাথায় রেখেই।

বজরা র স্থান – বর্তমানে এই বজড়াটি থাকে বিসর্জন ঘাট তথা কদমতলা ঘাটে। যেখানে একটি সিমেন্টের চাতালের সামনে রেখে দেওয়া হয় এটি। আর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এই চাতাল এর ওপরেই বড়ো করে লিখে দেওয়া হয়েছে, ‘নদী বাঁচান, জীবন বাঁচান’ –সেভ জলঙ্গি।

এর প্রধান কারন মূলত সময়ের সাথে সাথেই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্চে বিভিন্ন নদ নদী। কিন্তু নদীর প্রয়োজনীয়তা আছে সমাজে। তাকেও বয়ে যেতে দিতে হয় তার খেয়ালে। আর এই কথা মানুষকে মসচেতন করাতেই সেখানে লেখা রয়েছে সেটি।

জলঙ্গির উৎপত্তি – মুর্শিদাবাদ এ অবস্থিত পদ্মা নদী থেকেই সৃষ্টি হয়েছে এই জলঙ্গির। যেটি মূলত অতিক্রম করেছে প্রায় ২২০ কিমি পথ। এই নদীটি এসে মিশেছে নদীয়ার মায়াপুরের কাছে গঙ্গার সাথে। তবে এই নদীর মূল বৈশিষ্ট তার জলের রং। শীতকালে এই নদীর জল থাকে পান্না সবুজ।

যা মূলত জলঙ্গি ও গঙ্গার মিশ্রন স্থলে দুই নদীকে আলাদা করে রেখেছে। মানুষের কাছে যা এক অদ্ভুত জিনিস। এর পাশাপাশি এহেন জলের চারিদিকের মনোরম পরিবেশে এই নদীকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে।

কতদূর চলে বজরা – মূলত কদমতলা ঘাট থেকে শুরু করে গঙ্গা যমুনার মিশ্রন পর্যন্তই মানুষ যাওয়া আসা করে থাকে। সেক্ষেত্রে এই পথ প্রায় ২১ কিলোমিটার এর। এই পথ যেতে আসতে মোটামুটি ভাবে সময় লাগে প্রায় ৫ ঘন্টা। যদিও এই বজরা সর্বোচ্চ যায় পূর্বস্থালির পাখিরালয় চুপি পর্যন্ত।

যেটি মূলত গঙ্গার ওপর দিয়ে যেতে হয়। তবে পরিযায়ী সুন্দর সুন্দর পাখি দেখার জন্য এই স্থানটি খুবই জনপ্রিয়। আর সেই সাথেই ভাগ্যে থাকলে আপনি ভ্ৰমন পথেই দেখে ফেলতে পারেন বিলুপ্তপ্রায় গঙ্গার ডলফিন ও।

চৌধুরানী বজরার গঠন – মূলত বহু কাল আগে ত্রিস্ততা নদীর ওপর ঘুরে বেড়ানো সেই দেবী চৌধুরানী বজরার মতো করেই গড়ে তোলা হয়েছে এই চৌধুরানী বজরা টিও। সেই বজরা র দেওয়ালে যেমন নানা চিত্রে সজ্জিত ছিল রুপোর গিলটির মাধ্যমে অনেকটা সেই ধারা বজায় রেখে এই বজরা তেও জামিনি রায়ের আঁকা ছবি প্রিন্ট আউট করে সজ্জিত করা হয়েছে।

বজড়াটি র ভেতরে রয়েছে সুন্দর বসার জায়গা। মানুষের আরাম এর কারনে তাতে দেওয়া হয়েছে গদিও। পাশাপাশি যাত্রা পথে খাবার খাওয়ার জন্য আগে থেকেই রান্না করে তা তাতে তুলে নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চাইলে যাত্রা পথের কোন নিরিবিলি ও মনোরম জায়গাতে দাঁড়িয়েও আপনি সারতে পারেন খাওয়া দাওয়া।

কলকাতা থেকে কদমতলা যাওয়ার উপায় – এক্ষেত্রে কলকাতা থেকে খুব সহজেই আপনি আসতে পারবেন এই ঘাটে। তার জন্য বাস বা ট্রেন যেকোন পথে প্রথমে আপনাকে আসতে হবে কৃষ্ণনগর। সেখান থেকে খুব সহজেই আপনি কদমতলা ঘাট যাওয়ার জন্য পেয়ে যাবেন টোটো বা অটো। এক্ষেত্রে ৭০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া পড়তে পারে।

তবে মনে রাখতে হবে সকাল ১০ টা থেকে সরে দশটার মধ্যে পৌঁছাতে হবে ওই ঘাটে। তার পর বাজরা করে আপনি প্রকৃতির সৌন্দর্য সহ নদীর দুই পাশের গ্রামীন জীবন যাপন উপভোগ করতে পারেন। এক্ষেত্রে বজরা টিতে মোটামুটি ১০ থেকে ১৫ জন যাওয়া যায়। যদিও সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে অল্পকজন যাওয়ায় শ্রেয়। এক্ষেত্রে এই বজরার একদিনের ভাড়া পরে ৪৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button