১৭৬২ সালে স্বপ্নাদেশ পেয়ে কৃষ্ণনগরেই প্রথম জগদ্ধাত্রী পুজোর প্রচলন করেন রাজা কৃষ্ণচন্দ্র! জানুন অজানা ইতিহাস

আকাশবার্তা অনলাইন ডেস্ক: বাঙালির বার মাসে তের পার্বন। দূর্গা পূজা এবং কালি পূজা শেষ হতে না হতেই বাঙালির দরজায় কড়া নাড়ছে জগদ্ধাত্রী পূজা। সাধারণত কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের নবমী তিথিতে এই পুজো হয়। তবে এই পুজোর দু রকম নিয়ম রয়েছে, একটি দূর্গা পূজার মতই সপ্তমী থেকে নবমী এবং আরেকটি প্রথায় নবমীর দিন তিনবার পূজো করা হয় দেবী মা কে।

সাধারণ ভাবে দূর্গা পূজার বিকল্প হিসেবে এই জগদ্ধাত্রী পুজো বাংলায় শুরু হয়েছিল রাজা কৃষ্ণচন্দ্র স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর কৃষ্ণনগরে। জগদ্ধাত্রী মা দূর্গারই অপর এক রূপ।বাংলায় জগদ্ধাত্রী পুজোর ইতিহাস: পশ্চিমবঙ্গের দুই জায়গায় এই জগদ্ধাত্রী পূজা জাঁকজমকপূর্ণ হয়। চন্দননগর এবং কৃষ্ণনগরে।

তবে বাংলায় এই পুজো শুরু হয় ১৭৬২ সালে কৃষ্ণনগরে। তবে এই সাল নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। কথিত রয়েছে, নদীয়ায় কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের রাজত্বকালের সময় নবাব আলিবর্দি খা তার কাছে ১২ লক্ষ টাকা চেয়ে বসেন। এবং রাজা কৃষ্ণচন্দ্র তা দিতে মানা করায় তাকে বন্দী করা হয় মূর্শিদাবাদে। এরপর যখন তিনি সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে কৃষ্ণনগরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন তখন দেবী দূর্গার বিসর্জন হয়ে গিয়েছে।

সেই সময় মন মরা এই রাজাকে স্বপ্নাদেশ দিয়েছিলেন দেবী জগদ্ধাত্রী। এরপরেই রাজা কৃষ্ণচন্দ্র কৃষ্ণনগরে শুরু করেন জগদ্ধাত্রী পূজা।পরবর্তীতে রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের এই পূজায় অনুপ্রাণিত হয়ে ফরাসি দেওয়ান ইন্দ্রনারায়ণ চৌধুরী চন্দননগরে এই পুজো শুরু করেন।

জগদ্ধাত্রী বিসর্জন: কৃষ্ণনগরে জলঙ্গীতে মায়ের বিসর্জনের পূর্বে তাকে রাজবাড়ির সামনে দিয়ে ঘুরিয়ে আনা হয়।এর পেছনেও রয়েছে ঐতিহাসিক কারণ‌ । কথিত আছে, কৃষ্ণনগরে রাণীমা এই রাজবাড়িতে বসেই জগদ্ধাত্রী প্রতিমা দর্শন করতেন। সেই প্রথা মেনেই এখনও রাজবাড়ির সামনে দিয়ে ঘুরিয়ে আনা হয় জগদ্ধাত্রী ঠাকুর।

এরপর সাঙে করে অর্থাৎ মানুষের কাঁধে করে প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয় জলঙ্গীতে এবং পুরোনো রীতি অনুযায়ী, প্রথমে ভাসান হয় রাজবাড়ির জগদ্ধাত্রী ঠাকুর এবং তারপর বাকি মন্ডপের ঠাকুর ভাসান শুরু হয়।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button