বাবা মার্বেল পাথর বসানোর মিস্ত্রি হওয়া সত্ত্বেও বিহার বোর্ডে পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করল ছেলে!

নিজস্ব প্রতিবেদন:আমরা বারংবার এমন অনেক মানুষের পরিচয় পেয়েছি যারা জীবনে হাজার প্রতিকূলতা সত্ত্বেও
সমস্ত বাধা—বিপত্তি অতিক্রম করে এগিয়ে গিয়েছেন। কখনো কোন রকম ঝড় তাদের আটকে দিতে পারেনি।আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা এমন একজন যুবকের কথা বলবো যিনি মার্বেল লাগানোর মিস্ত্রির ছেলে হওয়া সত্বেও সম্পূর্ণ বোর্ডের পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছেন।

বিহারের বাসিন্দা এই যুবক টির নাম পবন কুমার। প্রতিটি বিষয় মিলিয়ে সর্বমোট ৪৮৩ নম্বর পেয়েছে সে। পবনের বাবা নন্দলাল লোকের বাড়ি বাড়ি ঘুরে টাইলস লাগানোর কাজ করে থাকেন। তাতে যা আয় হয়, সেটিতে নুন আনতে পান্তা ফুরায় পরিবারের।যার ফলস্বরুপ সংসার চালানোর জন্য শুধুমাত্র বাবা নয় মা ববিতা দেবীকেও লোকের বাড়ি বাড়ি কাজ করতে হয়। অনেক কষ্ট করে এতো দূর পর্যন্ত পড়াশোনা চালিয়ে এসেছে পবন।

পরিবারের আর্থিক অনটন থাকা সত্বেও কখনো পিছিয়ে আসেনি সে।একজন মার্বেল মিস্ত্রির ছেলে যে এত ভালো ফল করতে পারে আশেপাশের কোন প্রতিবেশীরাই ভাবতে পারেননি। ফল প্রকাশিত হবার পর থেকেই পবনের বাড়িতে খুশির আমেজ ছড়িয়ে রয়েছে।পবনের বাবা নন্দলালের গর্বে বুক ফুলে গিয়েছে ছেলের জন্য।সত্যি গরিব হওয়া সত্বেও এমন ছেলের জন্ম দেওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।

তবে শুধুমাত্র পড়াশোনাতেই থেমে থাকতে চান না পবন। আরো উচ্চ শিক্ষার মাধ্যমে আইএএস অফিসার হয়ে বাবার সব স্বপ্ন পূরণ করতে চান তিনি। ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য এখন থেকেই তিনি দিনে ৫—৬ ঘন্টা সময় বাড়তি পড়াশোনা করেন। এরমধ্যে বোর্ড পরীক্ষার সাফল্য সামনে আসার পর আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে গ্রামবাসীদের অনেকেই তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে গিয়েছেন পরবর্তী জীবনের সফলতার জন্য।আমরা আশা করবো ঠিক এভাবেই যেন জীবনে বাবা— মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে অনেক দূর পর্যন্ত এগিয়ে গিয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন পবন নামে এই ছেলেটি।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button