রাজ্য জুড়ে লোকাল ট্রেন চালু হলেও বাংলার এই লাইনে এখনো শুরু হয়নি পরিষেবা! চরম বিভ্রান্তিতে সাধারণ মানুষ!

নিজস্ব প্রতিবেদন :গত রবিবার থেকে রাজ্যের বুকে পুনরায় চালু হয়েছে লোকাল ট্রেন ।দীর্ঘ ছয় মাস ধরে বন্ধ থাকার পর অবশেষে 50% যাত্রী নিয়ে রাজ্যের বুকের লোকাল ট্রেন চালানোর অনুমতি দিয়েছে রাজ্য সরকার ।কিন্তু তবুও একাধিক স্টেশনে দেখা গেছে বিক্ষোভ। কারণ বাকি সমস্ত রুটে লোকাল ট্রেন চালু হলেও এই রুটে এখনো পর্যন্ত চালানো হয়নি কোন লোকাল ট্রেন ।যার ফলে গ্রামবাসীরা বড় সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

সূত্র মারফত এমনটা জানা যাচ্ছে যে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তরের লোকাল ট্রেন চালানো হলেও বীরভূম রামপুরহাট এবং সাহেবগঞ্জ লুপের রুটের ট্রেন এখনো পর্যন্ত চালানো হয়নি যার ফলে গ্রামবাসীদের মধ্যে দানা বেঁধেছে অসন্তোষের। এমতাবস্থায় তারা জানিয়েছেন যে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে যদি না চালু করা হয় তাহলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামবেন এবং অন্যান্য লোকাল ট্রেন গুলি কে অচল করে দেবে তারা ।ইতিমধ্যে গ্রামবাসীরা মিলিতভাবে একটি ডেপুটেশন জমা দিয়েছে রাজগ্রাম স্টেশন মাস্টারের কাছে।

যেহেতু রাজগ্রাম সহ পার্শ্ববর্তী অনেকগুলি গ্রাম ঝাড়খন্ড এর সীমান্তে অবস্থিত তাই এখানকার কোন কিছুই তেমন ভাবে উন্নত হয়নি। যার ফলে চিকিৎসা থেকে শুরু করে বাজারহাট সমস্ত কিছুতেই ভরসা রাখতে হচ্ছে তাদেরকে রামপুরহাট এর ওপর। কিন্তু দীর্ঘ 40 কিলোমিটার পথ রামপুরহাট যাতায়াত করতে তাদের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত ।যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এমনটা ঘোষণা করেছিলেন যে রাজ্যের বুকের লোকাল ট্রেন চালানো হবে তখন তারা কিছুটা আশ্বস্ত হয়েছিলেন ।কিন্তু পরবর্তী ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে যে বাকি সব রুটে লোকাল ট্রেন চালানো হলেও তাদের রুটে ট্রেন চালানো হচ্ছে না।

জানা গিয়েছে রাজগ্রাম সহ মুরারি, সন্তোষপুর গোপালপুরসহ প্রায় 30 থেকে 33 টি গ্রামের বাসিন্দারা এই লোকাল ট্রেনের ওপর নির্ভর করছেন। কিন্তু বাস পরিষেবা থাকলেও তা অনেকটাই কম। এক স্থানীয় নিত্যযাত্রী বলেছেন, “অত্যন্ত বেশি টাকা ব্যয় করে আমাদের রামপুরহাট যাতায়াত করতে হচ্ছে। অটো টোটো দ্বিগুণ ভাড়া চাইছে। সব জায়গায় লোকাল ট্রেন চালু হয়ে গেলেও আমাদের এই রুটে লোকাল ট্রেন পরিষেবা কেন চালু হয়নি তার উত্তর দিতে হবে রেল কর্তৃপক্ষকে। আমরা যারা ব্যবসা করে খায় তারা ব্যবসার মালপত্র নিয়ে যেতে পারছিনা। লোকাল ট্রেন চালু না হওয়ার কারণে আমাদের স্টাফ স্পেশাল ট্রেনের ওপর নির্ভর করে থাকতে হচ্ছে। আর স্টাফ স্পেশাল ট্রেনে যা ভিড়, তাতে আমাদের যাতায়াত করা দুষ্কর।

অপরদিকে রাজ গ্রামের স্টেশন মাস্টার এমনটাই জানিয়েছেন যে এখনো পিআরএম অফিস থেকে অনুমতি মেলেনি যে এই রুটে লোকাল ট্রেন চালানো হবে কিনা।” কিন্তু ট্রেন পরিষেবা এখনো পর্যন্ত চালু না হওয়ার জন্য এখানকার মানুষদের রামপুরহাট আসার জন্য 40 কিলোমিটার রাস্তা টোটো অথবা অটো করে আসতে হচ্ছে। যার দরুন এই লম্বা রাস্তার সফরকালীন অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে নিচ্ছে টোটো এবং অটো চালকরা।যার ফলে প্রতিনিয়ত ও নিত্যনতুন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে প্রায় 30 থেকে 33 টি গ্রামের বাসিন্দারা।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button